শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে টি-ব্যাগ দিয়ে চা বানানোর চল ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত জীবনে এটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা সতর্কবার্তা দিয়েছে, এই সুবিধার সঙ্গে গোপনে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘কেমোস্ফিয়ার’ জার্নালে বার্সেলোনার অটোনোমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে প্রচলিত টি-ব্যাগ থেকে ক্ষুদ্র আকারের মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক নির্গত হয়ে মানব শরীরে প্রবেশ করছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
গবেষণায় বলা হয়, প্লাস্টিক উপাদানে তৈরি টি-ব্যাগ চায়ের গরম পানিতে নিমজ্জিত হলে লক্ষাধিক প্লাস্টিক কণা পানির সাথে মিশে যায়। গবেষকরা বেশ কয়েকটি সাধারণ ব্র্যান্ডের টি-ব্যাগ পরীক্ষা করলেও নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নাম প্রকাশ করেননি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরীক্ষিত টি-ব্যাগগুলো মূলত নাইলন-৬, পলিপ্রোপিলিন ও সেলুলোজ দিয়ে তৈরি। এগুলো চায়ের পানিতে নিমজ্জিত হলে—
এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো অন্ত্রের কোষ শোষণ করে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিক কণাগুলো অন্ত্রের মিউকাস উৎপাদনকারী কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে কোষের নিউক্লিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। নিউক্লিয়াস কোষের জেনেটিক উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে, যা কোনো ক্ষতির শিকার হলে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী, আলবা গার্সিয়া-রদ্রিগেজ, জানিয়েছেন যে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব দূষণ কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এতে করে মানবদেহে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতের গবেষণার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
বাংলাদেশে টি-ব্যাগের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, কারণ এটি দ্রুত ও সহজে চা তৈরির সুবিধা দেয়। কিন্তু এই গবেষণা বলছে, এটি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাজারে প্রচলিত টি-ব্যাগেও প্লাস্টিক উপাদান থাকতে পারে, যা পান করার মাধ্যমে মানব শরীরে প্রবেশ করছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে—
বিশেষজ্ঞরা টি-ব্যাগের পরিবর্তে বিকল্প পদ্ধতিতে চা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন, যেমন—
গবেষকরা বলছেন, মানবদেহে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকের প্রভাব আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য গবেষণা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। এই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নীতিমালা প্রণয়ন হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
চা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে নিরাপদ চা পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হলে প্রাকৃতিক উপায়ে চা তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। টি-ব্যাগের পরিবর্তে খোলাপাতা চা ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুললে এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।